পল্লবীতে পানির পাম্প নির্মাণে বাধা দিতে জামাতের মুর্দার গোসলখানা নির্মাণের নাটক, অতঃপর গোলাগুলি

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: August 30, 2026

শনিবার রাজধানীর পল্লবীতে ঘটে যাওয়া হামলা ও সংঘর্ষ এবং গোলাগুলির ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। উর্দুভাষীদের ভোটাধিকার আদায়কারী সংগঠন উর্দু স্পিকিং পিপলস ইউথ রিহ্যাবিলিটেশন মুভমেন্ট এবং উর্দুভাষী যুব ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বিহারী ক্যাম্পের বাসিন্দাদের দাবি অনুযায়ী যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের ব্যক্তিগত উদ্যোগে পানির পাম্প বসানোর জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয় পল্লবীর ১১ নম্বরের বি-ব্লক এলাকায়। এরপর রাতারাতি কুখ্যাত মাদক কারবারীদের সাথে নিয়ে সেই জায়গাটি দখলে নিতে মুর্দার গোসলের স্থান তৈরির নাটক সাজায় জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। এরপর পরিকল্পিতভাবে সংঘর্ষ তৈরি করে গোলাগুলির ঘটনা ঘটানো হয়।

আমাদের হাতে আসা বেশ কয়েকটি ভিডিও ফুটেজেও সত্যতা মিলেছে এসব অভিযোগের। এই ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সামনে উর্দুভাষীদের ভোটাধিকার আদায়কারী নেতা সাদাকাত খান ফাক্কু ও তার ছেলের ওপর হামলার চেষ্টা চালায় পল্লবীর কুখ্যাত মাদক কারবারী মুস্তাক ও তার ছেলে সুমনের খুচরা মাদক বিক্রেতা ও সন্ত্রাসীরা। এ সময় স্থানীয় জামায়াত নেতা মানিক খান ও টিটুসহ বেশ কয়েকজনকে মাদক কারবারীদের শান্ত করার চেষ্টা করতে দেখা যায়। পল্লবী থানার ওসিকে রক্ষা করতে দেখা যায় বিহারী নেতা সাদাকাত খান ফাক্কু ও তার ছেলেকে।এরপর সাদাকাত খান ফাক্কু ও তার ছেলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

প্রতিবেদকের হাতে আসা আরেকটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সেই বিহারী নেতা ও তার ছেলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সাথে সাথেই সেখানে যান আসেন মাদক কারবারীদের আশ্রয়দাতা হিসেবে অভিযুক্ত নিয়াজ আহমেদ খান। তিনি উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন। তখন তার পাশে দাঁড়িয়ে হাততালি দেয় মুস্তাক ও সুমনের অনুসারীরা। অনুসন্ধান বলছে, তখন নেয়া যে রাজপাশে তার বক্তৃতা শুনে যারা হাততালি দিচ্ছিলেন তাদের অধিকাংশই খুচরা মাদক বিক্রেতা ও মাদক কারবারি।

এরপরই ৫ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াতের কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে পরিচয়দানকারী নাসির উদ্দিন সজলদের নেতৃত্বে মিছিল এবং উর্দুভাষী নেতাদের ওপর হামলার চেষ্টা চালানো হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে যায়। শুরু হয় উভয় পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এ সংঘর্ষের মধ্যে কেউ বা কারা ঘটনাস্থলে এসে কয়েক রং গুলি চালায়। এই ঘটনার জন্য একে অপরকে দায়ী করছে উভয়পক্ষ।

পরিস্থিতি শান্ত করতে ঘটনায় উস্কানি দেয়া কালে পল্লবীর মাদক কারবারীদের শেল্টারদাতা হিসেবে পরিচিত নিয়াজ আহমেদ খানকে আটক করে পল্লবী থানা পুলিশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান বশীর বলেন, বিহারীদের তালাব ক্যাম্পে পানির পাম্প এবং মুর্দা গোসলের স্থান নির্মাণ নিয়ে ঝামেলা বাদলে ঘটনাস্থলে উভয়পক্ষকে নিয়ে আলোচনার চেষ্টা চালায় পুলিশ। সন্ধ্যায় থানায় বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা থাকলেও মুর্দার গোসলখানা নির্মাণের পক্ষের লোকজন মিছিল বের করে। অপরপক্ষ প্রতিহত করার চেষ্টা করলে এই সংঘর্ষ বাধে। এই ঘটনায় পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য নিয়াজ আহমেদ খান নামের একজনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

এরপর টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে বিহারীদের সংগঠন ইউএসপিওয়াইআরএম ও উর্দুভাষী যুব ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোয়েন্দা সংস্থা আইআইডির দেয়া তথ্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মাদক কারবারীদের দ্বারা প্রভাবিত। এই প্রতিবেদন প্রত্যাহার করে সঠিক তথ্যসহ প্রতিবেদন প্রকাশ এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পল্লবীকে মাদকমুক্ত করতে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে সংগঠন দুটি। নির্ধারিত সময়ে দাবি আদায় না হলে পল্লবীর মাটিতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মাদকবিরোধী জাগরণ তৈরির হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সংগঠন দুটি।

ঘটনা যাই হোক ঢাকার প্রাণকেন্দ্র পল্লবীর বুকে এমন ভয়াবহ সংঘর্ষ এবং গোলাগুলির ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি সর্ব মহলের।