হোটেলে থাকার সময় শেষ। ব্যাগ গোছানো, বিল মেটানো সবই হয়ে গেছে। এবার শুধু বেরিয়ে পড়ার পালা। কিন্তু দরজার বাইরে পা রাখার আগে আর কয়েক মিনিট সময় নিয়ে কিছু বিষয় দেখে নিলে পরে অনেক ঝামেলা এড়ানো যায়। ভুল করে ফেলে যাওয়া প্রিয় জিনিস, চার্জার বা ওষুধ যেমন আর ফিরে না–ও পেতে পারেন, তেমনি ঘরটি গুছিয়ে রেখে গেলে হোটেলের কর্মীদের কাজও সহজ হয়। এমনকি পরেরবার একই হোটেলে গেলে ভালো রুম বা সুবিধাজনক ভাড়াও পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। হোটেল ছাড়ার আগে তাই এই ১২টি বিষয় একবার দেখে নিন।.হোটেলের ডাস্টবিন সাধারণত খুব বড় হয় না। ফলে আগের রাতের খাবারের প্যাকেট বা বাক্স সব সময় এর মধ্যে না-ও ধরতে পারে। অতিরিক্ত বাক্স বা প্যাকেট হোটেল রুমের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে না রেখে ডাস্টবিনের পাশে গুছিয়ে রাখুন। এতে ঘর পরিষ্কার করাও সহজ হয়।.শিশু সঙ্গে থাকলে দুর্ঘটনা এড়াতে অনেকে বিছানা দেয়ালের দিকে সরিয়ে রাখেন। এতে সমস্যা নেই। তবে হোটেল ছাড়ার আগে বিছানা বা অন্য কোনো আসবাব সরিয়ে থাকলে যতটা সম্ভব আগের জায়গায় ফিরিয়ে রাখুন। এটি হোটেলকর্মীদের প্রতি সৌজন্যও।.হোটেল ছাড়ার আগে বিছানা ও ড্রেসারের নিচে একবার ভালো করে দেখে নিন। বিশেষ করে সঙ্গে শিশু থাকলে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। শিশুরা খেলনা, প্রিয় পুতুল বা অন্য কোনো জিনিস সেখানে রেখে ভুলে যেতে পারে। পরে গাড়িতে ওঠার পর মনে পড়লে বিপদ, ফিরে গিয়ে সেটি নিয়ে আসা সম্ভব না–ও হতে পারে।.অনলাইনে হোটেল বুকিং দেওয়ার আগে যা জানা দরকার .হোটেল রুমে কোনো কিছু রাখার নিরাপদ ব্যবস্থা না থাকলে কেউ কেউ গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ম্যাট্রেস ও বক্স স্প্রিংয়ের মাঝখানে লুকিয়ে রাখেন। তাই বের হওয়ার আগে সেখানে একবার দেখে নিন। হোটেলকর্মীরা এসব জায়গা থেকে নানান ধরনের জিনিস উদ্ধার করেন।.বিছানার চাদর ও কমফোর্টার সরিয়ে একবার দেখে নিন, কোনো জিনিস সেখানে পড়ে আছে কি না। হোটেলকর্মীদের সুবিধার জন্য বিছানায় ব্যবহৃত চাদর খুলে রাখতে চাইলে কমফোর্টারটি মেঝেতে না রেখে চেয়ার বা আলমারিতে রাখুন। চাদর ও কমফোর্টার একসঙ্গে পেঁচিয়ে না রাখাই ভালো।.ব্যবহৃত তোয়ালেগুলো বাথটাবে বা নির্দিষ্ট একটি জায়গায় একসঙ্গে রাখুন। বিশেষ করে তোয়ালে ভেজা থাকলে এটি আরও সুবিধাজনক। এতে রুম পরিষ্কার করার সময় কর্মীকে ঘরের বিভিন্ন জায়গা থেকে তোয়ালে সংগ্রহ করতে হয় না।.হোটেলের ফ্রিজ ব্যবহার করে থাকলে বের হওয়ার আগে দেখে নিন, আপনার সঙ্গে নেওয়ার মতো কোনো খাবার বা পানীয় সেখানে রয়ে গেছে কি না। যেসব নিতে চান না, সেসব বিনে ফেলে দিন।.হোটেল ছাড়ার আগে নিজের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসার সরঞ্জাম সঙ্গে নিয়েছেন কি না, নিশ্চিত হয়ে নিন। ওষুধ ফেলে যাওয়া আপনার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। আবার ব্যবহৃত সিরিঞ্জ বা এ ধরনের চিকিৎসা-সরঞ্জাম হোটেল রুমে ফেলে যাওয়া হোটেলকর্মীদের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। সেসব ফেলে আসবেন না।শেভ করতে গিয়ে কোথাও কেটে গেলে এবং রক্ত বন্ধ করতে কোনো তোয়ালে ব্যবহার করে থাকলে সেটিও আলাদা করে জানান বা আলাদা জায়গায় রাখুন। হোটেল কর্তৃপক্ষকে এ ধরনের তোয়ালে বিশেষ নিয়মে পরিষ্কার বা অপসারণ করতে হতে পারে।.পাঁচ তারকা হোটেলের বাথরুমে টেলিফোন থাকে কেন.হোটেল থেকে ফেরার সময় সবচেয়ে বেশি ফেলে আসা জিনিসগুলোর একটি হলো চার্জার। তাই বের হওয়ার আগে বিছানার পাশে, টেবিলের ওপর, দেয়ালের সকেটসহ রুমের সব জায়গায় একবার চোখ বুলিয়ে নিন। ফোনের চার্জার ফেলে এলে বাড়ি ফেরার পরই তার ভোগান্তি টের পাওয়া যায়।.হোটেলের রুম পরিষ্কার করার কর্মীরা নিয়মিত কঠিন পরিশ্রম করেন। তাঁদের বেতন সাধারণত ঘণ্টাভিত্তিক হওয়ায় তাঁদের ক্ষেত্রে টিপের বিষয়টি রেস্তোরাঁর পরিবেশনকর্মী বা বেলহপদের (যাঁরা অতিথিদের মালপত্র বা স্যুটকেস বহন করে কামরায় পৌঁছে দেন এবং বিভিন্ন কাজে সাহায্য করেন) মতো নয়। তারপরও ভালো সেবা পেলে টিপ দেওয়া প্রশংসনীয়।কতটা টিপ দেবেন, তা নির্ভর করতে পারে হোটেলের মান, আপনি কত রাত ছিলেন এবং ঘরটি কতটা ব্যবহার করেছেন, তার ওপর। একাধিক ব্যক্তি একই ঘরে থাকলে, অতিরিক্ত তোয়ালে ব্যবহার করলে কিংবা সোফা-কাম-বেড বা অতিরিক্ত খাট ব্যবহার করলে একটু বেশি টিপ দেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারেন।.কাকে, কখন ও কত টাকা টিপস বা বকশিশ দেবেন.সকালে হোটেল থেকে বের হওয়ার সময় অনেকেই একসঙ্গে গাড়ির জন্য যোগাযোগ করেন। বিশেষ করে অপরিচিত শহরে থাকলে এতে অযথা সময় নষ্ট হতে পারে। তাই আগের রাতেই ফ্রন্ট ডেস্কে ফোন করে পরদিন কখন বের হবেন, তা জানিয়ে গাড়ি প্রস্তুত রাখার অনুরোধ করতে পারেন।যেমন সকাল সাড়ে ৭টায় বের হওয়ার পরিকল্পনা থাকলে আগেই জানিয়ে রাখলে নির্দিষ্ট সময়ে গাড়ি প্রস্তুত পাওয়া সহজ হবে। এতে আপনার সময় বাঁচবে, হোটেলকর্মীদেরও শেষ মুহূর্তে ছোটাছুটি করতে হবে না।.হোটেল রুম, সেবা ও পরিবেশ ভালো লেগেছে এবং ভবিষ্যতে আবার ওই এলাকায় থাকার পরিকল্পনা আছে? তাহলে বের হওয়ার আগে পরেরবারের জন্য বুকিংয়ের বিষয়ে ফ্রন্ট ডেস্কের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।হোটেলের ম্যানেজারের সঙ্গে সরাসরি কথা বললে অনলাইনে পাওয়া দামের পাশাপাশি অন্য কোনো সুবিধা বা আপগ্রেডের সুযোগও মিলতে পারে। তাই পছন্দের হোটেল হলে পরেরবারের থাকার পরিকল্পনাটিও আগে থেকে করে রাখতে পারেন।সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট.হোটেল-রিসোর্টে কোথায় কেমন ব্যয়
Source: https://www.prothomalo.com/lifestyle/travel/gt1xnjct82
প্রকাশক ও সম্পাদক : সুমন তানভীর
Copyright © 2026 প্রকাশ নিউজ. All rights reserved.