সেই গাজী নজরুলকে সংসদীয় কমিটিতে রাখা নিয়ে সংসদে বিতর্ক

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: September 7, 2026

জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে সংসদীয় কমিটিতে রাখা নিয়ে সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বিতর্ক হয়েছে। একটি কমিটিতে তাঁকে রাখা হলে আপত্তি জানায় বিরোধী দল। এটি নিয়ে বিতর্ক শেষে ওই কমিটি থেকে গাজী নজরুল ইসলামের নাম বাদ দেওয়া হয়। আজ সোমবার জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিশ্রুতি কমিটি গঠন নিয়ে এ ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার গত ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। তারা বিষয়টি স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অবহিত করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেয়। তবে এখন পর্যন্ত স্পিকার কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। তিনি এখনো সংসদ সদস্য আছেন। আজ সংসদে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি সরকারি প্রতিশ্রুতি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করার পর সেটি পাস হয়। এ কমিটিতে গাজী নজরুল ইসলামের নামও ছিল।.কমিটি গঠন অনুমোদিত হওয়ার পর ফ্লোর নেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি জানতে চান, এই কমিটিতে জি এম নজরুল ইসলাম বিরোধী দলের কোটা থেকে এসেছেন কি না।জবাবে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য এখন সংসদে আছেন। প্রত্যেককেই কোনো না কোনো কমিটিতে, কমপক্ষে একটা কমিটিতে থাকতে পারেন। গাজী নজরুলকে বিরোধী দলের কোটা থেকে কমিটির সদস্য করা হয়নি।তখন বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সে রকম হলে বিরোধী দলের আপত্তি নেই।এ পর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল চিফ হুইপের উদ্দেশে বলেন, গাজী নজরুল ইসলাম আগে একাধিক স্থায়ী কমিটিতে ছিলেন। বিরোধী দলের অনুরোধে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এখানে আবার তাঁকে রাখা হয়েছে, এ কারণে প্রশ্নটা এসেছে।তখন চিফ হুইপ বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত ওনার সদস্য পদ না যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি সব সদস্যকে রাখব (কমিটিতে)। আমি সবার পক্ষে কথা বলব। সে হিসেবে উনি (নজরুল) বিরোধী দলেরও না, সরকারি দলেরও না।’.চিফ হুইপ বলেন, এর আগে দুটি কমিটিতে নজরুল ইসলামকে রাখা হলেও বিরোধী দলের অনুরোধে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, তিনি চান সব সদস্যই অবদান রাখার সুযোগ পাক। এ কমিটির কার্যক্রম খুব বেশি নয়। হয়তো বছরে একবার দুবার বসতে পারে বা পাঁচ বছরে একবার–দুবার বসতে পারে। গাজী নজরুলের সদস্য পদ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে সদস্য রাখা যেতে পারে বলে তিনি মনে করেন।তখন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কোটা থেকে যেহেতু ওনাকে সদস্য রাখা হয়নি, সে ক্ষেত্রে আমাদের আপত্তি নেই।’এ পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এখানে কনফিউশনের সুযোগ নেই। বিরোধী দলের তালিকায় গাজী নজরুলের নাম ছিল না। যে কারণে মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিগুলোতে তাঁকে রাখা হয়নি। এখন কোনো না কোনো কমিটিতে ‘অ্যাকোমোডেট’ করতে গিয়ে গাজী নজরুল ইসলামকে রাখতে হয়েছে।গাজী নজরুলের বিষয়ে সিইসি ও স্পিকারকে চিঠি দেওয়ার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দল থেকে বহিষ্কার করা হলে সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যপদ শূন্য হয় না। নিজ থেকে পদত্যাগ না করলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ আসে না।.বিরোধী দলকে ‘বিনা পয়সায় একটা বুদ্ধি’ দিচ্ছেন জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আপনারা যদি সত্যি সত্যিই চান তাঁর (গাজী নজরুল) আসনটি শূন্য হোক, তাহলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের পক্ষে ভোট দেয় নাই আপনাদের এবং ভোটদানে বিরত ছিলেন। সেই জায়গায় ৭০ অনুচ্ছেদ কিন্তু আসে। এখন সেইটা কগনিজেন্সে (আমলে) নিয়ে যদি আপনারা স্পিকারের মনোযোগ আকর্ষণ করেন, চিঠি দেন বা নির্বাচন কমিশনে দেন, সেই হিসেবে বিধি মোতাবেক সাংবিধানিকভাবে সহযোগিতা করতে পারি। এই বুদ্ধিটা বিনা পয়সায় দিলাম।’এরপর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘গ্রামে একটা কথা চালু আছে, কোনো দুর্বল মানুষের ওপর প্রতিশোধ নিতে হলে, তারে মেম্বার ইলেকশনে দাঁড় করায়ে দেওয়া। আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাঝেমধ্যে আমাদের এ রকম কিছু টিপস দেন, আমরা উপভোগ করি।’বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা এখন তাকে (গাজী নজরুল ইসলাম) ফ্লোর ক্রসিংয়ের কথা বলব কেন? আমরা তো তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করেছি। আমরা তো বলতে পারি না, তিনি আমাদের দলের সদস্য হয়ে ফ্লোর ক্রসিং করেছেন, দলের সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করেছেন।.কমিটি পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, নৈতিক কারণে বহিষ্কার করার বিষয়টি তাঁরা চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন। জাতীয় সংসদের কোনো কমিটিতে তাঁকে না রাখাটা নৈতিকতার দিক থেকে উত্তম।পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দলের অবস্থান থেকে বোঝা যাচ্ছে তারা তার সংসদ সদস্য পদ বহাল রাখতে চান কিন্তু কমিটিতে রাখতে চান না। বিরোধীদলীয় নেতার অনুরোধে ইচ্ছা করলে গাজী নজরুল ইসলামকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়া যায়, কমিটি পুনর্গঠন আবার করা যায়। তাঁকে বাদ দেওয়া হলে বিরোধী দলীয় নেতার প্রতি সম্মান দেওয়া হবে। কিন্তু আমরা বুঝে গেলাম তাঁর (নজরুল) সদস্য পদ শূন্য করার পক্ষে তিনি নন।’পরে কমিটি জি এম নজরুল ইসলামের নাম বাদ দিয়ে সরকারি প্রতিশ্রুতি কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।

Source: https://www.prothomalo.com/politics/6edxq0028e